menu 2

Drop Down MenusCSS Drop Down MenuPure CSS Dropdown Menu

Friday, November 4, 2016

বিতর নামাজ



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম


 আলহামদুলিল্লাহ, ওয়া সালামুন আলা ইবাদিহিল্লা লাযিনাস তাফা, আম্মা বাদ!

 বিতর নামাজ

বিতর (وتر) শব্দটি আরবি। অর্থ হচ্ছে বিজোড়। নামাজ তিন রাকাআত বিধায় এটিকে বিতর বলা হয়। কেউ কেউ বিতরের নামাজ এক রাকাআতও পড়ে থাকেন। তবে রাসুসুল্লাহ (সাঃ) বয়স ও পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন অবস্থার কারণে তাহাজ্জুদের রাকাতসংখ্যা কম-বেশি হত। কিন্তু বিতর সর্বদা তিন রাকাতই পড়তেন। এক রাকাত বিতর পড়া নবীজী থেকে প্রমাণিত নয়। যে সব রেওয়ায়াতে পাঁচ, সাত বা নয় রাকাতের কথা এসেছে, তাতেও বিতর তিন রাকাতই। বর্ণনাকারী আগে-পরের রাকাত মিলিয়ে সমষ্টিকে ‘বিতর’ শব্দে ব্যক্ত করেছেন। হাদীসের রেওয়ায়াতসমূহে ব্যাপকভাবে বিতর ও তাহাজ্জুদের সমষ্টিকে ‘বিতর’ বলা হয়েছে। এটি একটি উপস্থাপনাগত বিষয়। ইশার নামাজের পরপরই নামাজ পড়া ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত তাহাজ্জুদের পর বিতর নামায পড়তেন। এটি ছিল নবীজীর সাধারণ অভ্যাস। আর রমজান মাসে তারাবিহ নামাজ পড়ার পর জামাআতবদ্ধভাবে ইমামের সঙ্গে বিতর নামাজ পড়া যায়। বিতরের নামাজ পড়ার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ তাগিদ দিয়ে বরেন, বিতরের নামাজ পড়া আবশ্যক। যে ব্যক্তি বিতর আদায় করবে না, আমাদের জামাআতের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। (আবু দাউদ)


অন্যান্য ফরজ নামাজের ন্যায় দুই রাকাআত নামাজ পড়ে প্রথম বৈঠকে বসে তাশাহহুদ পড়া। তারপর তৃতীয় রাকআত পড়ার জন্য উঠে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য কোনো সুরা বা আয়াত মিলানো। কিরাআত (সুরা বা অন্য আয়াত মিলানোর পর) শেষ করার পর তাকবির বলে দুহাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবিরে তাহরিমার মতো হাত বাঁধতে হয়। তারপর নিঃশব্দে দোয়া কুনুত পড়া। দোয়া কুনুত পড়ে পূর্বের ন্যায় রুকু, সিজদার পর শেষ তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাছুরা পড়ে ছালাম ফিরানোর মাধ্যমে বিতরের নামাজ সমাপ্ত করতে হয়।


বিতর নামাজের সুপ্রমাণিত রাকায়াত সংখ্যা :
নবীজী বিতর তিন রাকাত পড়তেন। এটিই তাঁর অনুসৃত পন্থা। নিম্নের হাদীসসমূহ থেকে বিষয়টি সুপ্রমাণিত।
আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রমযানে নবীজীর নামায কেমন হত? তিনি উত্তরে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে এবং রমযানের বাইরে এগার রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না! এরপর আরও চার রাকাত পড়তেন, যার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা তো বলাই বাহুল্য! এরপর তিন রাকাত (বিতর) পড়তেন।-সহীহ বুখারী ১/১৫৪, হাদীস ১১৪৭; সহীহ মুসলিম ১/২৫৪, হাদীস ৭৩৮; সুনানে নাসায়ী ১/২৪৮, হাদীস ১৬৯৭; সুনানে আবু দাউদ ১/১৮৯, হাদীস ১৩৩৫; মুসনাদে আহমদ ৬/৩৬, হাদীস ২৪০৭৩
সা‘দ ইবনে হিশাম রাহ. বলেন, হযরত আয়েশা রা. তাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না। -সুনানে নাসায়ী ১/২৪৮; হাদীস ১৬৯৮; মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৫১ (বাবুস সালাম ফিল বিতর) মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/৪৯৪, হাদীস ৬৯১২; সুনানে দারাকুতনী ২/৩২, হাদীস ১৫৬৫; সুনানে কুবরা বাইহাকী ৩/৩১
এই হাদীসটি ইমাম হাকেম আবু আব্দুল্লাহ রাহ.ও ‘মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তার আরবী পাঠ এই- كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يسلم في الركعتين الأوليين من الوتر অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের প্রথম দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না। ইমাম হাকেম (রহ.) তা বর্ণনা করার পর বলেন- هذا حديث صحيح على شرط الشيخين অর্থাৎ হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহীহ। ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী রাহ. ‘তালখীসুল মুস্তাদরাক’-এ হাকেম রাহ.-এর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। -মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন ১/৩০৪, হাদীস ১১৮০
এই হাদীস দ্বারা একদিকে যেমন প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাধারণ নিয়মে তিন রাকাত বিতর আদায় করতেন তেমনি একথাও প্রমাণিত হয় যে, তিন রাকাতের দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহহুদের জন্য বসতেন, কিন্তু সালাম ফেরাতেন না। সালাম ফেরাতেন সবশেষে তৃতীয় রাকাতে। যদি দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক করার নিয়ম না থাকত তাহলে সালাম করার বা না করার প্রসঙ্গতই আসত না। কেননা সালাম তো ফেরানো হয়ে থাকে।
ইমাম ইবনে হাযম যাহেরী রাহ. ‘মুহাল্লা’ কিতাবে বিতরের বিভিন্ন পদ্ধতির মাঝে আলোচিত পদ্ধতিটিও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিতর তিন রাকাত পড়া হবে। দ্বিতীয় রাকাতে বসবে এবং (তাশাহহুদ পড়ে) সালাম ফেরানো ছাড়াই দাঁড়িয়ে যাবে। তৃতীয় রাকাত পড়ে বসবে, তাশাহহুদ পড়বে এবং সালাম ফেরাবে, যেভাবে মাগরিবের নামায পড়া হয়। এটিই ইমান আবু হানীফা রাহ.-এর মত। এর দলিল হচ্ছে, সাদ ইবনে হিশাম রাহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস, যাতে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না। -মুহাল্লা ইবনে হাযম ২/৮৯
সাদ ইবনে হিশাম রাহ.-এর রেওয়ায়াতটি আরও একটি সনদে বর্ণিত হয়েছে, যার আরবী পাঠ নিম্নরূপ- كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر بثلاث لا يسلم إلا في آخرهن অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকাত বিতর পড়তেন এবং শুধু সর্বশেষ রাকাতে সালাম ফেরাতেন। হাকেম রাহ. এই রেওয়ায়াতের পর লেখেন, আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা.ও এভাবে বিতর পড়তেন এবং তাঁর সূত্রে মদীনাবাসীগণ তা গ্রহণ করেছেন। -মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন ১/৩০৪, হাদীস ১১৮১
(৩) আব্দুল্লাহ ইবনে আবী কাইস বলেন- قلت لعائشة : بكم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر؟ قالت: كان يوتر بأربع وثلاث, وست وثلاث, وثمان وثلاث, وعشر وثلاث, ولم يكن يوتر بأنقص من سبع, ولا بأكثر من ثلاث عشرة. অর্থাৎ আমি হযরত আয়েশা রা.-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবীজী বিতরে কত রাকাত পড়তেন? উত্তরে তিনি বলেন, চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন, দশ এবং তিন। তিনি বিতরে সাত রাকাতের কম এবং তের রাকাতের অধিক পড়তেন না। -সুনানে আবু দাউদ ১/১৯৩, হাদীস ১৩৫৭ (১৩৬২); তহাবী শরীফ ১/১৩৯; মুসনাদে আহমদ ৬/১৪৯, হাদীস ২৫১৫৯
চিন্তা করে দেখুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদ নামায কখনো চার রাকাত, কখনো ছয় রাকাত, কখনো আট রাকাত, কখনো দশ রাকাত পড়তেন; কিন্তু মূল বিতর সর্বদা তিন রাকাতই হত।
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. ফাতহুল বারী ৩/২৬ باب كيف صلاة الليل, كتاب التهجد)- এ লেখেন- هذا أصح ما وقفت عليه من ذلك, وبه يجمع بين ما اختلف عن عائشة في ذلك. والله أعلم আমার জানামতে এটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সর্বাধিক সহীহ রেওয়ায়াত। এ বিষয়ে হযরত আয়েশা রা. বর্ণিত হাদীসের বর্ণনাকারীদের মাঝে যে বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় এর দ্বারা সে সবের মাঝে সমন্বয় করা সম্ভব।
(৪) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাহাজ্জুদ ও বিতর প্রত্যক্ষ করার জন্য হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এক রাতে তাঁর খালা উম্মুল মুমিনীন হযরত মাইমূনা রা.-এর ঘরে অবস্থান করেন। তিনি যা যা প্রত্যক্ষ করেছেন বর্ণনা করেছেন। তাঁর শাগরেদরা সে বিবরণ বিভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন। আমি এখানে সুনানে নাসায়ী ও অন্যান্য হাদীসের কিতাব থেকে একটি রেওয়ায়াত উদ্ধৃত করছি- ‘মুহাম্মাদ ইবনে আলী তার পিতা থেকে, তিনি তার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে শযা্য থেকে উঠলেন, এরপর মেসওয়াক করলেন, এরপর দুই রাকাত পড়লেন, এরপর শুয়ে গেলেন। তারপর পুনরায় শয্যা ত্যাগ করলেন, মেসওয়াক করলেন, অযু করলেন এবং দুই রাকাত পড়লেন; এভাবে ছয় রাকাত পূর্ণ করলেন। এরপর তিন রাকাত বিতর পড়লেন। এরপর দুই রাকাত পড়েন। حتى صلى ستا ثم أوتر بثلاث وصلى ركعتين -সুনানে নাসায়ী ১/২৪৯, হাদীস ১৭০৪; মুসনাদে আহমাদ ১/৩৫০, হাদীস ৩২৭১; তহাবী শরীফ ১/২০১-২০২
(৫) প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ইমাম সাঈদ ইবনে জুবাইর, যিনি ইবনে আব্বাস রা.-এর বিশিষ্ট শাগরেদ, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন- كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر بثلاث ويقرأ في الأولى سبح اسم ربك الأعلى, وفي الثانية قل يا أيها الكفرون, وفي الثالثة قل هو الله أحد. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকাত বিতর পড়তেন, প্রথম রাকাতে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা’, দ্বিতীয় রাকাতে ‘কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন’ এবং তৃতীয় রাকাতে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পড়তেন। -সুনানে দারেমী ১/৩১১, হাদীস ১৫৯৭; জামে তিরমিযী ১/৬১, হাদীস ৪৬২; সুনানে নাসায়ী ১/২৪৯; হাদীস ১৭০২; তহাবী শরীফ ১/২০১, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/৫১২, হাদীস ৬৯৫১ ইমাম নববী রাহ. ‘আলখুলাসা’ কিতাবে উক্ত হাদীসের সনদকে সহীহ বলেছেন। -নাসবুর রায়াহ, জামালুদ্দীন যাইলায়ী ২/১১৯ বিতরের তিন রাকাতে উপরোক্ত তিন সূরা, এক এক রাকাতে এক এক সূরা, পড়া সম্পর্কে একাধিক সাহাবী থেকে রেওয়ায়াত বিদ্যমান রয়েছে। প্রতিটি রেওয়ায়াত প্রমাণ করে যে, বিতরের নামায তিন রাকাত। মোটকথা, বিতরের নামায তিন রাকাত হওয়ার বিষয়ে হাদীস ও সুন্নাহর বহু প্রমাণা রয়েছে এবং অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ীর আমলও তাই ছিল। এখানে আরেকটি হাদীস উল্লেখ করছি- عن ثابت قال: قال أنس: يا أبا محمد خذ عني فإني أخذت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم, وأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الله, ولن تأخذ عن أحد أوثق مني, قال: ثم صلى بي العشاء, ثم صلى سب ركعات يسلم بين الركعتين, ثم أوتر بثلاث يسلم في آخرهن (الروياني وابن عساكر, ورجاله ثقات, كما في كنز العمال) প্রসিদ্ধ তাবেয়ী সাবেত বুনানী রাহ., বলেন, আমাকে হযরত আনাস ইবনে মালেক রাহ. বলেছেন, হে আবু মুহাম্মাদ! (সাবেত রা.-এর কুনিয়াত-উপনাম) আমার কাছ থেকে শিখে নাও। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গ্রহণ করেছি। আর তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন থেকে নিয়েছেন। তুমি শেখার জন্য আমার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য কাউকে পাবে না। একথা বলে তিনি আমাকে নিয়ে ইশার নামায আদায় করেন। এরপর ছয় রাকাত পড়েন, তা এভাবে যে, প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফেরান। এরপর তিন রাকাত বিতর পড়েন এবং সবশেষে সালাম ফেরান। -মুসনাদে রুয়ানী, তারীখে ইবনে আসাকির; ইমাম সুয়ূতী রাহ. বলেন, এই হাদীসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য (কানযুল উম্মাল ৮/৬৬-৬৭, হাদীস ২১৯০২ ‘আলবিতরু মিন কিতাবিস সালাত, কিসমুল আফআল)
জরুরি জ্ঞাতব্য
বিতর নামাযের ব্যাপারে আজকাল এক ব্যাপক অবহেলা এই পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, একে এমন এক নামায মনে করা হয় যার আগে কোন নফল নামায নেই, যেমন মাগরিবের নামায; এর আগে নফল নামায মাসনূন নয়; অথচ বিতরের ব্যাপারে শরীয়তের কাম্য এই যে, তা কিছু নফল নামায পড়ার পর আদায় করা। সবচেয়ে ভাল এই যে, যার শেষ রাতে তাহাজ্জুদের জন্য জাগার নিশ্চয়তা রয়েছে, সে তাহাজ্জুদের পরে বিতর পড়বে। যদি বিতর রাতের শুরু ভাগে ইশার পর পড়া হয় তবুও উত্তম এই যে, দুই-চার রাকাত নফল নামায পড়ার পর বিতর আদায় করবে। মাগরিবের মত আগে কোন নফল ছাড়া শুধু তিন রাকাত বিতর পড়া পছন্দনীয় নয়। হাদীস শরীফে আছে- لا توتروا بثلاث تشبهوا بصلاة المغرب, ولكن أوتروا بخمس, أو بسبع, أو بتسع, أو بإحدى عشرة ركعة, أو أكثر من ذلك. তোমরা শুধু তিন রাকাত বিতর পড়ো না, এতে মাগরিবের সাদৃশ্যপূর্ণ করে ফেলবে; বরং পাঁচ, সাত, নয়, এগার বা এরও অধিক রাকাতে বিতর পড়ো। -মুস্তাদরাকে হাকেম ১/৩০৪, হাদীস ১১৭৮; সুনানে কুবরা বাইহাকী ৩/৩১, ৩২
মোটকথা, বিতরের আগে কিছু নফল অবশ্যই পড়-দুই, চার, ছয়, আট-যত রাকাত সম্ভব হয় পড়ে নাও। ৩ নং-এর অধীনে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা.-এর হাদীস উল্লিখিত হয়েছে, যাতে তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন, দশ এবং তিন-বিভিন্ন সংখ্যায় রাতের নামায আদায় করতেন। উল্লিখিত হাদীসে ওই নির্দেশনাই এসেছে যে, শুধু তিন রাকাত বিতর পড়ো না, আগে কিছু নফল অবশ্যই পড়। তবে বিতর সর্বাবস্থায় তিন রাকাতই।
উক্ত হাদীসের সাথে একথার কোন সম্পর্ক নেই যে, তিন রাকাত এক বৈঠকেই পড়তে হবে, তাহলেই শুধু তা মাগরিবের সাদৃশ্য থেকে বেঁচে যাবে। তাই তিন রাকাত পড়তে হলে তা এক বৈঠকেই পড়তে হবে। স্মরণ রাখতে হবে, মাগরিবের সাদৃশ্য থেকে বাঁচার পদ্ধতি হাদীসে সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, তিন রাকাত বিতরের আগে নফল পড়ে নাও। হাদীসের ব্যাখ্যা ছেড়ে নিজের পক্ষ থেকে বিতরের নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করা বিভ্রানি- ছাড়া আর কিছুই নয়।
শরীয়তে সকল নামাযের মূলকথা এই যে, প্রতি দুই রাকাতে বৈঠক হবে এবং তাশাহহুদ পড়া হবে। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে সহীহ মুসলিম ১/১৯৪, হাদীস ৪৯৮-এ একটি দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক ব্যাপক বাণী উদ্ধৃত রয়েছে। তাতে তিনি ইরশাদ করেন- وفي كل ركعتين التحية ‘প্রতি দুই রাকাতে তাশাহহুদ রয়েছে।’ একই হুকুম একাধিক সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত রয়েছে। শরীয়তের ব্যাপক শিক্ষা পরিহার করে কোন রেওয়ায়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে একথা বলা যে, তিন রাকাত বিতর পড়লে শুধু এক বৈঠকেই পড়া-এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটা من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد -এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা উম্মতকে উক্ত অনিষ্ট থেকে হেফাযত করুন। আমীন।
এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার উপরই লেখাটি সমাপ্ত করছি। তবে বিষয়টি যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ তাই আগামী কোনো সংখ্যায় হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ লুধিয়ানবী (রহ.)এর একটি বিস্তারিত আলোচনা প্রকাশ করা হবে, যা তাঁর ‘ইখতেলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকীম’ কিতাবে প্রকাশিত হয়েছে। هذا, وصلى الله تعالى وسلم على سيدنا ومولانا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين, وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين. 


 সতর্কতা- তৃতীয় রাকাআতে দোয়া কুনুত না পড়ে সিজদায় চলে গেলে নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে সাহু সিজদা করলেই চলবে। আবার ভুলে প্রথম বা দ্বিতীয় রাকাআতে দোয়া কুনুত পড়ে ফেললেও সাহু সিজদা

দিতে হবে।
সুতরাং বিতরের নামাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুসলিমাকে নিয়মিত বিতরের নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন

Some Important Maritime Abbreviation

AIS
Automatic Identification ( / Information ) System
ALC
Approximate Lethal Concentration
ATA
Automatic tracking Aid
BWM
Ballast Water Management
CBT
Clean Ballast Tank
CLC
International Convention on Civil Liability for Oil Pollution Damage
COLREG
International Convention for Preventing Collision at Sea
COW
Crude Oil Washing
CRB
Cargo Record Book
CSC
International Convention for Safe Containers
CSO
Company Security Officer
CSR
Continuous SynopsisRecord
DFS
Deck Foam System
DOC
Document of Compliance
DoS
Declaration of Security
DPA
Diesel Performance Analyzer
ECDIS
Electronic Chart Display and Information System
EEBD
Emergency Escape Breathing Device
EEZ
Exclusive Economic Zone ( 200 nautical miles from the nearest land )
EIAPPC
Eingine International Air Pollution Prevention Certificate
EmS
Emergency Schedules
EPIRB
Emergency Position Indicating Radio Beacons
ERS
Emergency ResponseInternational Association of Classification Society
FAL
Convention on Facilitating of International Maritime Traffic (FAL-1965)
FFA
Fire Fighting Appliance
FSS Code
International Code for Fire Safety Systems
FUND
International Convention on the Establishment of an International Fund for Compensation for Oil Pollution Damage, 1971
GMDSS
Global Maritime Distress and Safety System
GMP
Garbage Management Plan
GRB
Garbage Record Book
HCFCs
Hydro-chloro-fluoro-carbon
HSC
High Speed Craft
HSSC
Harmonized System of Survey and Certification
IACS
International Association of Classification Society
IAFS
International Anti-Fouling System ( Certificate )
IAMSAR
International Aeronautical and Maritime Search and Rescue (IAMSAR) Manual
IAPPC
International Air Pollution Prevention Certificate
IBC Code
International Bulk Chemical Code
IFO
Intermediate Fuel Oil
IGC Code
International Gas Carrier Code
IGS
Inert Gas System
IISSC
Interim International Ship Security Certificate
ILO
International Labor Organization
IMDG Code
International Maritime Dangerous Goods Code
IMO
International Maritime Organization
IMCO
Inter-Governmental Maritime Consultative Organization
INF
Irradiated Nuclear Fuel
INMARSAT
Convention on the International Maritime Satellite Organization
IOPPC
International Oil Pollution Prevention Certificate
ISM Code
International Safety Management Code
ISPPC
International Sewage Pollution Prevention Certificate
ISPS Code
International Ship and Port Facility Security Code
ISSC
International Ship Security Certificate
LCD
Load Change Dependent (Cylinder Lubrication)
LL
International Convention on Load Lines
LLL
Low-Location Lighting
LLMC
Convention of Liability for Maritime Claims, 1976
LSA
Life-Saving Appliance
LSFO
Low Sulphur Fuel Oil
LTA
Line Throwing Appliance
MARPOL
International Convention for the Prevention of Pollution from Ships, 73/78
MEPC
Marine Environment Protection Committee
MES
Maritime Evacuation System
MFAG
Maritime First Aid Guide
MGPS
Marine Growth Protection System
MODU
Mobile Offshore Drilling Unit
MRM
Management Review Meeting
MSC
Maritime Safety Committee
MSDS
Material Safety Data Sheet
NC
Non-conformity
NLS
Noxious Liquid Substance
NOx
Nitrogen Oxide
OCIMF
ODS
Ozone Depleting Substance
OPRC
International Convention on Oil Pollution Preparedness, Response and Co-operation, 1990
ORB
Oil Record Book
PFSA
Port Facility Security Assessment
PFSO
Port Facility Security Officer
PFSP
Port Facility Security Plan
PSC
Port State Control
PVCs
Polyvinyl Chlorides
RSO
Recognized Security Organization
SAR
International Convention on Maritime Search and Rescue, 1979
SART
Search And Rescue Transponders
SBT
Segregated Ballast Tank
SCBA
Self Contained Breathing Apparatus
SECA
SOx Emission Control Area
SMC
Safety Management Certificate
SMS
Safety Management System
SMPEP
Shipboard Marine Pollution Emergency Plan
SOC
Statement Of Compliance
SoCPF
Statement of Compliance of a Port Facility
SOx
Sulphur Oxides
SOLAS
International Convention for the Safety of Life at Sea, 1974
SOPEP
Shipboard Oil Pollution Emergency Plan
SSA
Ship Security Assessment
SSO

Ship Secur

Friday, October 28, 2016

The free surface effect


তরল পদার্থের একটি সাধারন প্রবণতা হলো; কোনো পাত্রের ভিতরে রেখে পাত্রটিকে যে কোনেই বা যে ভাবেই কাত করা হোক পাত্রস্থ তরল পদার্থের উপরিতল সর্বদা ভূমির সমান্তরালে থাকবে। যেমন ধরুন আপনি একটি গ্লাসে পানি নিলেন আর গ্লাসটিকে কাত করলেন তবে কিনহবে?
অবশ্যই গ্লাসের পানি একদিকে সরে গিয়ে পানির উপরিতল ভুমির সমান্তরাল হবে। আর একটু বুঝার জন্যে নিচের চিত্রটি দেখা যেতে পারে।

পানি পূর্ণ গ্লাসকে কাত করলে যেদিকে গ্লাসকে কাত করা হয় পানি ওই দিকে সরে আসে 

এখন পরিস্কার তো? এই প্রবণতার নামই free surface effect


এবার আসি একটু কিতাবী সংজ্ঞায়


The free surface effect is a mechanism which can cause a watercraft to become unstable and capsize.

It refers to the tendency of liquids — and of unbound aggregates of small solid objects, like seeds, gravel, or crushed ore, whose behavior approximates that of liquids — to move in response to changes in the attitude of a craft's cargo holds, decks, or liquid tanks in reaction to operator-induced motions (or sea states caused by waves and wind acting upon the craft). When referring to the free surface effect, the condition of a tank that is not full is described as a "slack tank", while a full tank is "pressed up".




সংজ্ঞাটির একটি ভাবানুবাদঃ
free surface effect একটি প্রক্রিয়া যা একটি নৌযান unstable (অস্থির) হয়ে এবং এটি উল্টে যে যেতে পারে.
এটা তরল পদার্থের একটা প্রবণতা বোঝায়(যা আগেই বলা হয়েছে) - এবং ছোট কঠিন বস্তুর পরস্পর মুক্ত দানাগুলো যেমন, বীজ, নুড়ি, বা গুঁড়ো আকরিক মত, যার আচরণ ওই সকল তরল পদার্থের কাছাকাছি  যা কার্গো হোল্ডের অবস্থান পরিবর্তনের(least or tream) সাথে সাথে নির্দিষ্ট দিকে সরে যায় (যেদিকে কাত করা হয় ওই দিকে সরে যায়), সাধারনত রোলিং পিচিং এর সময়ে অথবা হোল্ডের দুই দিকের ট্যাঙ্ক unequal লোডীং এর কারনে cargo একদিকে সরে আসে।
Fig: Free Surface Effect
এবং
extreme পর্যায়ে জাহাজকে উল্টে(capsize) দেয়।



free surface effect এর উপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি।
১। কোনো ট্যাঙ্ক পূর্ণ থাকলে তা pressed up"
২। কোনো ট্যাঙ্ক কিছুটা খালি অবস্থায় থাকলে তা a "slack tank"


Sunday, August 14, 2016


Sun rod fire tube boiler


A fire-tube boiler is a type of boiler in which hot gases from a fire pass through one or Sun and planet gear; Watt's Return connecting rod engine; Six-column


Principle of sun rod fire tube boiler




RUNLI DZL series steam and hot-water boiler is the single-cylinder, water-tube assembly, chain grate boiler. Boiler drum is arranged along the center of the boiler longitudinally. The front drum and both sides of the furnace water all tubes form radiant heating surface, the rear drum and the tube nest between the header form convection heating surface. Coal economizer is installed at the rear of boiler. After some heat of the combustion-generated high temperature fume is absorbed by the hearth, the fume flows to the convection heating surface through cooling chamber and exhausts outside through the chimney via coal economizer, dust collector and draught fan.






Features and Advantages of sun rod fire tube boiler


1. Compact structure, small installation space, single-floor boiler room, cost-effective infrastructure.
2. Great assembly level, short installation period and inexpensive installation.
3. Sufficient and reasonable heating surface, quick temperature/pressure-rise of boiler, satisfactory productivity and high heating efficiency.
4. Introduce the air with air distribution chambers of grate. All air distribution chambers can adjust the air flow independently and grate can be regulated stepless speed. Wide range of applicable coals and full combustion.
5. Electric control cabinet is equipped with complete automatic control and monitor instruments featuring high automation, safety, reliability and simple operation.

Thursday, July 28, 2016

নামাজ সম্পর্কিত চল্লিশটি হাদীস


হাদীসগ্রন্থ গুলোতে নামাজের ব্যাপারে যথেষ্ট তাকীদ ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তাদের সবগুলোকে একসাথে বর্ণনা করা দুরুহ ব্যাপার। তবুও চল্লিশটি হাদিসের অনুবাদ সংক্ষেপে নিচে দেয়া হল।


 (১) রাসুলে পাক (সা:) বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার উম্মতের উপর সর্বপ্রথম নামাজ ফরজ করেছেন এবং কেয়ামতের দিন সবার আগে নামাজের হিসাব নয়া হবে।


 (২) নামাজের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর, নামাজের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর।


 (৩) মানুষের মধ্যে এবং শিরকের মধ্যে নামাজই একমাত্র প্রতিবন্ধক।


৪) ইসলামের নিদর্শন একমাত্র নামাজ। যে ব্যক্তি একাগ্রচিত্তে ওয়াক্ত ও সময়ের প্রতি লক্ষ রেখে নামাজ পরে সে মোমিন।


(৫) আল্লাহপাক ঈমান ও নামাজের চেয়ে উত্তম শ্রেষ্ঠত্বের আর কোন বিষয়কে ফরজ করেননি। যদি করতেন তাহলে ফেরেশতারা দিনরাত কেউ রুকু আর কেউ সেজদায় পরে থাকতেন।


 (৬) নামাজ দ্বীন ইসলামের খুটি।


 (৭) নামাজের দ্বারা শয়তানের মুখ কাল হয়ে যায়।


(৮) নামাজ মোমেনের নূর স্বরূপ।


 (৯) নামাজ শ্রেষ্ঠ জেহাদ।


১০) কোন ব্যক্তি যখন নামাজে দাড়ায় তখন আল্লাহপাক তার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেন।আর যখন সে নামাজ থেকে সরে যায়, তখন আল্লাহও মনোযোগ সরিয়ে নেন।


 (১১) যখন কোন আসমানী বিপদ অবতীর্ণ হয় তখন মসজিদ আবাদকারীদের উপর থেকে বিপদ সরে যায়।


 (১২) কোন পাপের কারণে কোন নামাজি দোজখে প্রবেশ করলে তার সেজদার অঙ্গ দোজখের আগুন স্পর্শ করবেনা।


(১৩) সেজদায় ব্যবহৃত অঙ্গকে আল্লাহপাক দোজখের আগুনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।


(১৪) ঠিক ওয়াক্তে নামাজ আদায় করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়।


(১৫) মানুষ যখন সেজদারত অবস্থায় কপাল মাটিতে মিশায় সেই অবস্থায় মানুষকে দেখতে আল্লাহ অধিক ভালবাসেন।


 (১৬) সেজদায় রত অবস্থায় আল্লাহর নৈকট্য সবচাইতে বেশি লাভ হয়।


(১৭) নামাজ বেহেশতের কুঞ্জি।


 (১৮) মানুষ নামাজে দাড়ালে তার জন্য বেহেশতের দরজা খুলে যায় এবং আল্লাহতায়ালা ও নামাজিদের মধ্যে কোন পর্দা থাকে না।


 (১৯) নামাজি আল্লাহর দরজায় করাঘাত করে, যে ক্রমাগত করাঘাত করে তার জন্য দরজা খোলাটাই স্বাভাবিক।


 (২০)শরীরে জন্য যেমন মাথা, দ্বীনের জন্য তেমন নামাজ।


 (২১) নামাজ হৃদয়ের আলো, যার ইচ্ছা সে যেন নামাজ দ্বারা হৃদয়কে আলোকিত করে।


(২২) ঠিকভাবে অজু করে নম্রতার সাথে যে দুই রাকাত ফরজ বা নফল নামাজ আদায় করে গোনাহের জন্যই ক্ষমা চায় আল্লাহপাক তাকে ক্ষমা করে দেন।


 (২৩) জমিনের যে অংশে নামাজ পড়া হয়, সে অংশ অন্য অংশের উপর গর্ব করে থাকে।


 (২৪) দুই রাকাত নামাজ পরে দোয়া করলে তা নিশ্চয়ই কবুল হয়। তবে সাথে সাথে কবুল হতে পারে বা নামাজির মঙ্গলের জন্য কিছু দেরিও হতে পারে।


 (২৫) যে নির্জনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে যা আল্লাহ ও ফেরেশতা ছাড়া আর কেউ জানেনা সে জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা পেল।


 (২৬) যে একটি ফরজ আদায় করল আল্লাহর দরবারে তার একটি দোয়া কবুল হল।


 (২৭) যে পাচ ওয়াক্ত নামাজ গুরুত্বের সাথে রুকু সেজদা অজু ইত্যাদি সঠিকভাবে আদায় করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব, দোজখ হারাম।


 (২৮) মুসলমান যখন এহতেমামের সাথে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে থাকে, শয়তান তাকে ভয় করে আর সে যখন নামাজে গাফিলতি করে তখন শয়তানের সাহস বেড়ে যায় এবং তাকে কুপথে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।


(২৯) ওয়াক্ত মত নামাজ পড়া সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।


(৩০)নামাজ প্রত্যেক পরহেজগার ব্যক্তির কোরবানী স্বরূপ।


(৩১) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল আউয়াল ওয়াক্তে নামাজ পড়া।


 (৩২) ভোরে যে নামাজ পড়তে যায় তার হাতে ঈমানের পতাকা থাকে।


 (৩৩) জোহরের আগে চার রাকাত নামাজ তাহাজ্জুদের চার রাকাতের সমতুল্য।


(৩৪) জোহরের আগে চার রাকাত সুন্নত নামাজ তাহাজ্জুদের চার রাকাতের সমতুল্য। (৩৫) মানুষ যখন নামাজে দাড়ায় তখন আল্লাহর রহমত তার দিকে রুজু হয়।


(৩৬) মধ্য রাতের নামাজ শ্রেষ্ঠতর নামাজ, কিন্তু কমসংখ্যক লোকই তা আদায় করে থাকে।


 (৩৭) আমার কাছে হজরত জিবরাইল (আ:) এসে বললেন, হে মোহাম্মদ (সা:)! যতদিন আপনি বেচে থাকুন না কেন, একদিন আপনাকে মৃত্যু বরণ করতেই হবে, আর যাকেই ইচ্ছা ভালবাসুন না কেন, একদিন তার কাছ থেকে পৃথক হতেই হবে আর ভাল খারাপ যে আমলই করুন না কেন তার প্রতিদান অবশ্যই পাবেন। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, মোমেনের শারাফত ও বুজুর্গী তাহাজ্জুদের মধ্যে।


 (৩৮) রাতের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়ার সবকিছু থেকে উত্তম। তা আদায় করা কষ্টকর না হলে আমি তা উম্মতের উপর ফরজ করে দিতাম।


 (৩৯) তাহাজ্জুদের নামাজ অবশ্যই পড়বে। কারণ তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া নেক বান্দাদের তরীকা আর আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার কারণ। তাহাজ্জুদ গোনাহ থেকে বিরত রাখে। তা কৃত অন্যায় থেকে ক্ষমা পাওয়ার উপায়। এ দ্বারা দেহের সুস্থতাও লাভ করা যায়।


 (৪০) আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি দিনের শুরুতে চার রাকাত নামাজ আদায় করতে শৈথিল্য করিওনা। আমি সারাদিন তোমার সব কাজ সম্পাদনের ব্যবস্থা করব।


হাদিসগ্রন্থগুলোতে নামাজের ফজিলত ও নামাজের প্রতি উৎসাহ দেয়ার জন্য অসংখ্য হাদিস বর্ণিত আছে। রেওয়ায়েত অনুযায়ী চল্লিশটি হাদিসের এক বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, তাই এখানে চল্লিশটি হাদিস উদ্ধৃত করা হয়েছে। কেউ এই হাদীসগুলোকে মুখস্ত করে নিলে চল্লিশটি হাদিস রক্ষার ফজিলত লাভ করবে। আসলে নামাজ এমনই এক সম্পদ যার মর্যাদা ঐ ব্যক্তি রক্ষা করতে পারে যাকে আল্লাহপাক নামাজের স্বাদ গ্রহণ করিয়েছেন। এজন্য হুজুরে পাক (সা:) নামাজকে চোখের তৃপ্তি বলে উল্লেখ করেছেন। আর এ কারণেই হুজুর (সা:) রাতের বেশিরভাগ সময়ই নামাজের মধ্যে কাটিয়ে দিতেন। এজন্যই হুজুর (সা:) জীবনের শেষ মুহূর্তেও নামাজের তাকিদ করেছেন। আরো অনেক হাদিসে হুজুর পাক (সা:) বলেছেন, নামাজের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করিও। হুজুর (সা:) অন্য আরেক হাদিসে বলেছেন,অন্য সব আমলের মধ্যে নামাজই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। এক সাহাবী বলেন, আমি একদিন রাতে মসজিদে নববীতে ছিলাম। হুজুর (সা:) নামাজ পড়ছেন দেখে উনার পেছনে আমার নামাজ পড়ার আগ্রহ হল। তাই নিয়ত বাধলাম, হুজুর (সা:) ছুরা বাক্বারা শুরু করলেন। আমি ভাবলাম তিনি একশ আয়াত পড়ে রুকু করবেন, কিন্তু তা করলেন না। এবার ভাবলাম দুইশ আয়াত পড়ে রুকুতে যাবেন, কিন্তু তাও করলেন না। আমি আবার ভাবলাম হয়ত সূরা বাক্বারা শেষ করে রুকুতে যাবেন। সূরা বাক্বারা যখন শেষ হল হুজুর (সা:) তখন কয়েকবার আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু পাঠ করলেন।তারপর সুরা আল ইমরান শুরু করলেন, আমি চিন্তায় পরে গেলাম। এবং ভাবলাম এই সুরা পড়ে নিশ্চয়ই রুকু করবেন, কিন্তু সুরা আল ইমরান শেষ করে হুজুর (সা:) তিনবার আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু পাঠ করে সুরা মায়েদা শুরু করলেন এবং এই সুরা শেষ করে রুকুতে গেলেন। রুকুতে তাসবিহের সাথে আরো কি পড়লেন যা আমি বুঝতে পারলাম না। তারপর সেজদায় গিয়ে তসবিহ পড়লেন এবং সাথে আরো কিছু পড়লেন যা আমি বুঝতে পারলাম না। অত:পর দ্বিতীয় রাকাতে তিনি সুরা আনআম শুরু করলেন। আমি হুজুরের সাথে নামাজ পড়ার সাহস পেলাম না। বাধ্য হয়ে নামাজ ছেড়ে চলে গেলাম।হুজুর (সা:) প্রথম রাকাতে প্রায় পাচ পারা তেলাওয়াত করেন। তারউপর হুজুর (সা:) এর পড়াও একবারে ধীরে ধীরে তাজবিদ ও তারতীলের সাথে একেকটি আয়াত পৃথকভাবে পড়ছিলেন। ফলে প্রতিটি রাকাত কতই না লম্বা হয়েছিল। এসব কারণেই নামাজ পড়তে পড়তে হুজুর (সা:) এর পা মোবারক ফুলে যেত। কিন্তু যে জিনিসের ভালবাসা একবার মনের ভিতর স্থান করে নেয় তার জন্য কোন কষ্টই আর থাকে না। বিখ্যাত মোহাদ্দেছ আবু ইসহাক সাহাবী (রা:) একশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি আফছোছ করে বলতেন, হায় ! বার্ধক্যের কারণে নামাজের স্বাদ আর রইলনা। দুই রাকাতে সুরা বাক্বারা ও সুরা আল ইমরানের বেশি পড়া যায়না। (এই দুটি সুরাও পৌনে চার পারা)