menu 2

Drop Down MenusCSS Drop Down MenuPure CSS Dropdown Menu

Tuesday, February 11, 2014

সূদ মানবতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি


অন্যায় অপরাধ যেখানে অবাধে মাথাচাড়া দেয় মানবতা সেখানে ভুলুন্ঠিত। আর মানবতা হচ্ছে সেরকম একটি ব্যবস্থা যেখানে মানুষ তার বাক্তি স্বার্থ এবং অন্য সবার স্বার্থ সমান করে দেখবে।যেখানে প্রত্যেকে সমান নিরাপত্তা সমান অধিকার ভোগ করবে।অর্থ উপার্জনের জন্য সবাই অন্যের স্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে।ইসলাম মানবতার জন্য সর্বোত্তম সমাধান।ইসলামের সঙ্গে সুদের মৌলিক তফাত হচ্ছে, সূদ যে মুলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তার সাথে আল্লাহর ইচ্ছা এবং মানুষের জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। সুদের মুলনীতি এরকম- মানুষ তার অর্থ লাভের জন্য স্বাধীন।ভোগ ও ব্যবহারের জন্য, যেকোনো উপায়ে বৃদ্ধির বাপারে সে স্বাধীন। এই স্বাধীনতার মধ্যে সে কারো আইন বা শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়, অন্য কাউকে সুযোগ দিতে বা কল্যান কামনার জন্য সে বাধ্য নয়।অর্থ উপার্জনে তার কষ্ট হল কি হলনা এটি বিবেচ্য নয়।তাই তার জন্য মানব প্রকৃতির এই স্বাধীনতাকে সামনে রেখেই সূদের আইন কানুন রচিত হয়েছে।কিন্তু মানব সত্তার ভিতরে অর্থ লিপ্সা, আত্বকেন্দ্রিকতা বিদ্যমান কুপ্রবিত্তির তাড়নায় অপরকে কষ্ট দিয়ে তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করাটাই স্বাভাবিক।মানুষের এই অর্থ লিপ্সা ও আত্বকেন্দ্রিকতা থেকেই গড়ে ওঠে এমন এক অর্থনীতি যা মানুষকে মানবতা থেকে বহু দূরে নিয়ে যায় সমাজ বাবস্থা তখন ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠি, দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কতিপয় পুজিপাতির স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত হয়।ফলে সম্পদের সঞ্চালন, বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে কিছু পুজিপাতির হাতে কুক্ষিগত হয়ে পড়ে দরিদ্র পরিনত হয় আরও দরিদ্রে। বর্তমান বিশ্বে অভাবগ্রস্থ, গরিব, দুঃখির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে এর কারন হল আগে সূদী-মহাজনরা বাড়ি বাড়ি সূদী কারবার চালাতো এখন তারা পুরো বিশ্বে সংস্থা আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনসাধারনকে প্রলুব্ধ করছে অতঃপর তার হাড় মাংস চিবিয়ে খাচ্ছে।খুবই আশ্চর্য হই যখন এই সুদকেই দারিদ্র বিমচনের উপায় হিসাবে প্রচার করা হয়, দারিদ্র বিমোচনের নোবেল দেওয়া হয় সূদী-মহাজনদের হাতে।আজ আমাদের সামনে সেই দিনই হাযির হয়েছে যেই দিনের কথা নবী (সাঃ) বলেছেন,

“মানুষের উপর এমন যুগ অবশ্যই আসবে যখন মানুষ পরোয়া করবেনা কিভাবে সে মাল অর্জন করল হালাল থেকে না হারাম থেকে” (সহিহ বুখারি হাদিস নং-১৯৫৩)

 

মনে করুন একজনের কাছে কিছু টাকা আছে সে যদি নিজে কোনো ব্যবসা বা অন্য কাজে লাগায় তবে তাতে লাভ লোকসানের সম্ভাবনা থাকে।কিন্তু সে যদি মুলধন এই সব সুদী সংস্থা হতে সংগ্রহ করে তবে ওই সংস্থা নিজের লাভই বিবেচনা করে অর্থাৎ ব্যবসায়ে লাভ বা লোকসান যাই হোক ঋণ দাতার অর্থ এবং সুদ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।শুভঙ্করের ফাকিটা এখানেই আর এই শুভঙ্করের ফাক গলেই এই সুদী কারবারিরা অর্থকে কুক্ষিগত করছে।ঋণ গ্রহিতার সকল অর্থ স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ ঋন দাতার হাতে চলে যাচ্ছে।অমানবিকতাটাই মুলত এখানে তাইতো আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“যারা সুদ খায় তারা ঐ ব্যক্তির ন্যায় উঠবে যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দেয়। তা এ জন্য যে তারা বলে- ক্রয়-বিক্রয় সুদের মত অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।”
                                                                                     (আল কোরআন - ২;২৭৫)

আল কোরআন কেবল খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতেই বলেনা বরং খারাপ বর্জনএর উপায়ও বাতলে দেয়। তাইতো এর পরেই আল্লাহ যাকাতের কথা বলেছেন,

“ আল্লাহ কোন পাপী কাফেরকে পছন্দ করেননা। নিশ্চই যারা ইমান আনে এবং সৎ কর্ম করে, নামাজ কায়েম করে আর জাকাত দেয় তাদের নাই কোনো ভয় নাই কোনো চিন্তা।হে লোকেরা তোমরা যারা ইমান এনেছ আল্লাহকে ভয় কর, বকেয়া সূদ ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও।”
                                                                                   (আল কোরআন - ২;২৭৭-২৭৮)

পরকালে সূদখোরের শাস্তিঃ

হাদীসঃ
মুসা ইবনে ঈসমাইল……… সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) হইতে বর্নিত রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, "আমি গত রাতে একটি স্বপ্ন দেখেছি, দুইজন লোক এসে আমাকে একটি পবিত্র ভুমিতে নিয়ে গেল। আমরা একটি রক্তের নদীর কিনারায় পৌছালাম সেখানে দেখলাম এক ব্যক্তি একটি রক্তের নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এবং একটি লোক নদীটির কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে, কিনারায় দাড়ানো লোকটির সামনে কয়েকটি পাথর রয়েছে, মাঝের লোকটি কিনারায় উঠতে চাইলে কিনারার লোকটি মুখে পাথর মেরে তাকে আবার মাঝে পাঠিয়ে দিচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম লোকটি কে? সে বলল রক্তের নদীর মাঝে যে লোকটিকে আপনি দেখেছেন সে লোকটি সুদখোর  "
                                        (সহিহ বুখারী হাদিস নং ১৯৫৫)


সমাজ ব্যবস্থায় সুদের ভয়ঙ্কর পরিনতিঃ
১। ইসলামের বুনিয়াদি চেতনার সাথে সুদ প্রতক্ষ্যভাবে সংঘর্ষশীল তাই যে অঞ্চলে সুদ বিদ্যমান সেই জনপদে ইসলাম পুর্ন শক্তিতে বিরাজমান নেই বা থাকতে পারেনা।

২। সুস্থবুদ্ধি ও সকল সৌভাগ্যের দ্বার রুদ্ধ করে ভারসাম্যপুর্ন উন্নয়নের পথকে কন্টকাকির্ন করে। এ অবস্থায় ইমান রক্ষা করে বেচে থাক অসম্ভব।

৩। সুদী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির নৈতিকতার স্খলন ঘটে। নৈতিকতা ব্যতিত ইসলামী জীবন ব্যবস্থার
কোনো একটি অংশও চলতে পারেনা। কারন নৈতিকতাই হল ইসলামী জীবন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। আর ভিত্তি
কোনো কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হলে পুরো জীবন ব্যবস্থাটাই ধসে পড়বে।

Monday, February 10, 2014

ইখলাসের গুরত্ব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা:)এর হাদিস:


আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা: হইত বর্নিত তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সা: কে বলতে শুনেছি যে, পূর্বেকার যুগের তিন লোক কোথাও যাচ্ছিল পথিমধ্যে বৃষ্টি এসে পড়ায় তারা রাত কাটানোর একটি পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হলতারা গুহায় প্রবেশের পরে একটি পাথর খন্ড গড়িয়ে এসে গুহার মুখ বন্ধ করে দিলতারা স্থির করল তাদের নেক আমলকে অসিলা বানিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলে এই মসিবত হতে রক্ষা পাওয়া সম্ভবতাদের একজন দোয়া করল, হে আল্লাহ্ আমার পিতামাতা অতিশয় বৃদ্ধ আমি আমার পরিবার পরিজনদের আগেই তাদেরকে দুধ পান করাতামএকদিন আমি জ্বালানী কাঠের সন্ধানে অনেক দূরে চলে যাই এবং বাড়িতে ফিরতে রাত হয়ে যায়, এসে দেখি আমার বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়েছেন আমি তাদেরকে জাগানো সমীচিন মনে করলাম না তাই তাদের শিয়রে দুধ নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম, আমার বাচ্চাগুলো আমার পায়ের কাছে ক্ষুধার জন্য কাদছিল কিন্তু পিতা-মাতার আগে তাদেরকে দুধ পান করান সঙ্গত মনে করলাম না এভাবে সকাল হয়ে গেলঅতঃপর তারা ঘুম হতে জাগলেন আমি তাদেরকে দুধ পান করালামহে আল্লাহ্! আমি যদি এই কাজটি তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে থাকি তবে তুমি আমাদের উপর থেকে এই পাথরের বিপদ সরিয়ে নাওএতে করে পাথরখন্ড সরে গেল বটে তবে তারা কেউ বের হতে পারলনা 
অতঃপর অপর ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্ আমার এক চাচাত বোন ছিল যাকে আমি দুনিয়ার সবচাইতে বেশী সূন্দরী মনে করতামতাকে আমি ভালবাসতাম পুরুষ নারীকে ঠিক যতটুকু ভাল বাসতে পারেআমি তার সাথে কাম বাসনা চরিতার্থ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলাম, সে সম্মত হলনাঅবশেষে এক দুর্ভিক্ষের বছরে সে আমার কাছে দূর্বল অবস্থায় এলআমি তাকে নির্জনে মিলনের শর্তে একশত বিশটি স্বর্ন মুদ্রা দিলামএবার সে সম্মত হলঅতঃপর আমি যখন তার দুই উরুর মাঝে অবস্থান নিলাম তখন সে বলল ওহে! আল্লাহ্কে ভয় কর অন্যায় ভাবে আমার স্বতিত্ব নষ্ট করনাআমি তৎক্ষনাত মেয়েটিকে ছেড়ে চলে এলাম অথচ আমি তাকে প্রচন্ড ভালবাসতামএমনকি আমি তাকে যে স্বরন মুদ্রা দিয়েছিলাম তাও ফেলে এলামহে আল্লাহ্! আমি যদি এই কাজটি তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে থাকি তবে তুমি আমার উপর থেকে এই পাথরের বিপদ সরিয়ে নাওএতে করে পাথরখন্ড আর একটু সরে গেল তবু তারা কেউ বের হতে পারলনা
অতঃপর তৃতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্ আমি একবার কয়েকজন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলাম আমি তাদের পারিশ্রমিক যথারীতি পরিশোধ করেছিলামতাদের মধ্যে একজন কম পারিশ্রমিক ভেবে তা না নিয়ে চলে গেলআমি তার পারিশ্রমিকের টাকাটা ব্যবসায় বিনিয়োগ করলাম এবং তাতে অনেক লাভ হলকিছুদিন পরে লোকটি এসে বলল হে আল্লাহর বান্দা আমার পাওনা টাকা পরিশোধ করুন, আমি বললাম সামনে উট, গরু, ছাগল, ভেড়া, চাকর-বাকর যাকিছু দেখতে পাচ্ছ সব তোমার, সে বলল তুমি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছ? আমি বললাম নাতখন সে সব কিছুই নিয়ে চলে গেল এবং কিছুই রেখে গেলনাহে আল্লাহ্! আমি যদি এই কাজটি তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে থাকি তবে তুমি আমাদের উপর থেকে এই বিপদ সরিয়ে নাওএতে করে পাথরখন্ড পুরপুরি সরে গেল এবং তারা বের হয়ে আসল। (বুখারী ও মুসলিম)

এই হাদিসে রাসুলে করিম (সাঃ) আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন ইখলাসের 

আমরা কি পারব প্রথম লোকটির মত মাতা-পিতার সেবা করতে?
পারব কি দ্বিতীয় লোকটির মত আল্লাহ্র ভয়ে অবৈধ কাম-মোহ ত্যাগ করতে?
তৃতীয় লোকটির মত আমানতদারির বৈশিষ্ট কি আমাদের চরিত্রে থাকা উচিত নয়?

আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে উপরোক্ত হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন (আমিন)

ইশার আগে না ঘুমানো এবং ইশার পরে গালগল্প না করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া সুন্নত।



হাদীসঃ
হযরত আনাস (রাঃ) হইতে বর্নিত তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)ইশার (নামাজের) আগে ঘুমাতেএবং ইশার (নামাজের) পরে গালগল্প করতে নিষেধ করেছেন "                                                                       
                                                               মুসনাদে আবি ইয়ালা হাদীস নং - ৪০৩৯

এখানে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ইশার (নামাজের) আগে ঘুমাতে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন প্রকৃত পক্ষে ইশার নামাজের  আগে বিছানায় যাওয়া স্বাভাবিক যূক্তিবিরুদ্ধ এবং রুচি বিবর্জিত কাজ কারন আপনি তো নিশ্চিত জানেননা যে, আপনি ইশার নামাজ আদায় করতে পারবেন কিনা তাই ইশার আগে না ঘুমানোই উচিৎ পক্ষান্তরে  ইশার (নামাজের) পরে আপনি গালগল্প করতে পারবেনা, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে যাতে আপনি কিয়ামমুল্লাইল (তাহহাজ্জুদের নামাজ) আদায় করতে এবং ফজরের জামায়াতে শামিল হতে পারেন তবে ছাত্র /ছাত্রী দের ক্ষেত্রে প্রয়োজন মাফিক পড়াশোনা তথা রাত্রি জাগররন পূর্বক ঘুমিয়ে পড়া উত্তম   কারন তলেবুল এলেমের জন্যে তো পড়াশোনাই ইবাদত

              যাঝাকাল্লাহু বিল খইর (আল্লাহ্ আপনাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন)